পৃষ্ঠাসমূহ

মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মতামত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২ মে, ২০১৮

পাত্রী চাই (সত্যি গল্প)

সোহেলী জান্নাত

পাত্রী চাই (১):

#গল্প
(ঘটনাটি অনেকাংশেই সত্য। কিন্তু সাইবার ক্রাইম আইনে মানহানির মামলায় ফেঁসে যেতে পারি ভেবে গল্প নামে চালিয়ে দিচ্ছি! নইলে গল্প লেখার দু:সাহস আমার নেই!)

ক্লাসমেট বন্ধু আমার সদ্য বিসিএস পাশ করে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জয়েন করেছে।আমাকে ফোন করে জানায় নি।ফেসবুকে নিজের পরিচয়ের জায়গায় যখন গোটা গোটা হরফে লিখে দিয়েছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অফ.....!  তখনই জানতে পেরেছি। খুব খুশিও হয়েছি, আবার অবাকও! ব্যাকবেঞ্চার ক্যাবলাকান্ত কিছুটা মিনমিনে বন্ধু আমার কী করে এই অসাধ্য সাধন করলো!
যাইহোক! করেছেতো! মিনমিনে বলায় আবার কেউ রাগ করবেন  না।  একটি ঘটনার প্রেক্ষিতেই বলেছি।সে ঘটনা পরে একদিন বলা যাবে। মূল কথায় আসি।

তো হটাতই একদিন বন্ধুর ফোন পেলাম।
:দোস্ত কেমন আছিস!
শিহাব বলছি।( ছদ্মনাম)
খুব সাবলীল ভঙ্গী।আমাকে তুই করে বলায় অবাক হলাম কিছুটা! পুরো ভার্সিটি লাইফে আমিতো দূরের কথা অন্যকোনো মেয়েকে তুই বলার মত আত্মবিশ্বাসী ছেলে সে নয়! বুঝলাম একটা  চাকুরি অনেক কিছু পরিবর্তন করে দিয়েছে।

 তার দৌড় ছিল ক্লাসের পিছনে বসে মেয়েদের ওড়না পড়ার ঢং বিশ্লেষণ করে ক্লাসটাইম পার করায়!  মেয়েরাও তাকে পাত্তা দিত না খুব। কিন্তু এখন দেয়।শিহাবের একটা লুতুপুতু হাবিজাবি স্টাটাসে শতাধিক কমেন্ট পড়ে।লাইকের সুনামি ঘটে যায়! এবং বলা বাহুল্য অধিকাংশই মেয়ে। শিহাব এখন কাঙ্খিত পাত্র! ওর ঘোর কালো পাথুরে রঙ এখন ড্যাশিং কালার! এমন হাড্ডিমাস ফিগার মেধাবীদের হয়েই থাকে! এ আর এমন কী!

অত:পর, আমিও হাসি মুখে প্রতিউত্তর করলাম
:কী খবর! কেমন আছ? নতুন জব! কেমন লাগছে! মিস্টি খাওয়ালেনা কিন্তু!
: দোস্তো আগে বিয়েটা দিয়ে দাও এবার! একবারেই মিস্টি খাওয়াই!( আমার তুমি শুনে শিহাবো আগের রূপে ফিরে গেছে।তুমি করেই বলছে!)
: বিয়ে করতে চাও? ভালোতো! তা তোমার আবার মেয়ের অভাব নাকি! ফেসবুকে দেখলাম লাইন লেগে গেছে!
:না দোস্ত! যেন তেন মেয়েকি আর বিয়ে করা যায়! একটা ভালো মেয়ে খুঁজে দাও।তুমি ইউনিভার্সিটিতে আছ দেখে তোমাকেই বলছি।
: আচ্ছা! তা কেমন মেয়ে চাও?
: দোস্তো তোমার মতো মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী,  স্বাবলম্বী! প্রথম শ্রেনীর চাকুরী করা হলে ভাল হয়! সংসারে সাপোর্ট পাবো।
 তুমিতো আগেই বিয়ে করে ফেলেছো, নইলে ইউনিভার্সিটিতে তুমি কিন্তু আমার ক্রাশ ছিলে! ভয়ে সাহস করে বলতে পারি নি!
এই কথা শুনে শিহাবের প্রতি যে নেগেটিভ ধারণা ছিলো সেটি নিমিষেই পালটে গেলো! নাহ! ছেলেটাতো ভালোই! মেয়েদের দেহ নয়, মেধার মুল্যায়ণ করছে!( বলতে লজ্জা পাচ্ছি, তবু বলি, শিহাবের উপযুক্ত প্রশংসা এবং আমি ক্রাশ ছিলাম যেনে কিঞ্চিত খুশিও হয়েছি।)

তবু ক্লিয়ার হবার জন্য আবারো জিজ্ঞাসা করলাম :সুন্দরী চাও না? মেয়ের বাপের টাকা পয়সা চাও না?

: নাহ দোস্ত।  সুন্দর মোটামুটি হলেই হবে।বেশি সুন্দরে ঝামেলা! গাছের পাঁকা বড়ইয়েই ঢিল পরে বেশি!
আর বাপের টাকা দিয়ে আমার কী হবে! আমি দিন মজুরের ছেলে! বড়লোকের দুলালী হলে শেষে আমাকেই খোঁটা দেবে।আব্বা মাকে সম্মান করবে না।ভাইবোনদের ভালবাসবে না।

একটানে বলে গেলো কথাগুলো! ওর এই মনোভাব খুব ভালো লাগলো আমার। বাহ! ছেলেটা পরিবারের কথা কি সুন্দর করে ভাবছে!
ওকে বললাম:
: ঠিক আছে বন্ধু, তোমার জন্য মেয়ে আমি দেখবো।

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৮

নো তত্ত্ব কথা! আজ শুধুই গল্প!


সোহেলী জান্নাত
(ফেসবুক পোস্ট)

একদেশে এক রাজা ছিলো, যার ছিলো নতুন পোশাকের প্রতি অসম্ভব ফ্যাসিনেশান! প্রতিদিন পরার জন্য নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক  তার চাই ই চাই !  রাজার এই নিত্যকার বায়না মেটাতে মেটাতে রাজ্যের দর্জিরা একটাসময় ক্লান্তহয়ে পড়লো! রাজার অনুরোধ, শাসন কিছুতেই আর তাদের মাথা দিয়ে নতুন ডিজাইন বেরোলো না।
তখন রাজা তার বিশেষ খায়েস পুরনে নতুন পোশাকের জন্য অর্ধেক রাজ্য আর পুরো রাজকন্যা উপহার ঘোষণা করলেন।এরই সুযোগ নিল দুষ্ট কিছু লোক। তারা রাজাকে গিয়ে বল্লো আমরা আপনাকে নতুন ডিজাইনের পোশাক বানিয়ে দেব, কিন্তু আমাদের একশত ভরি সোনা রুপা আর নির্জন স্থান দিতে হবে!
রাজা তখন  পোশাকমোহে অন্ধ! আগামাথা না ভেবেই বললেন তথাস্তু!
তো এভাবে মাস গরিয়ে গেলো, কিন্তু নতুন পোশাক আর আসে না। তখন রাজা তার সেনাপতিকে পাঠালেন নতুন পোশাকের খোঁজ নিতে। সেনাপতি সেখানে গিয়ে দেখেন পোশাক টোশাক কিছুই নেই, কেবল এক লোক পান চিবুতে চিবুতে খালি চরকা কেটে চলেছে।
সেনাপতি রাগে আগুন হয়ে বললেন হতচ্ছাড়ার দল! এত সোনারুপা নিলি, রাজার পোশাক কই? গর্দান নেব এক্ষুণি!

মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮

ধর্ষণ বৃদ্ধি রাজনৈতিক ও বিচার ব্যবস্থার করাপশনের ফলাফল

ড. ফারজানা মাহবুবা
(ফেসবুক পোস্ট থেকে)
আসিফা'র কথা সব জায়গাতেই দেখছি।
ইন্ডিয়া নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যে 'মুসলিম' বাচ্চা মেয়েটাকে মন্দিরের ভিতরে আটকে রেখে কয়েকজন 'হিন্দু' গ্যাং রেইপ করে কয়েকদিন পর শেষে গলা চিপে আর মাথায় পাথর দিয়ে থেঁতলে দিয়ে
মেরেই ফেলেছে বাচ্চাটাকে। 

কিন্তু পূজা'র কথা জানেন?
বাংলাদেশে যে 'হিন্দু' বাচ্চা মেয়েটাকে 'মুসলিম' সাইফুল নামের এক লোক রেইপ করার সুবিধার জন্য ব্লেড দিয়ে কেটে বড় করে নিয়েছে বাচ্চাটার প্রাইভেট পার্ট,
রেইপ করার সময় গলা চেপে ধরায় যার ব্রেইনে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ থাকায় যে অজ্ঞান হয়ে যায়,
পুরো ঘটনা এতটাই বিভৎষ,
পুজা'কে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানকারী ডাক্তার Dr. Sonia Zemin এর নিজের ফেইসবুকে লেখা ফার্ষ্ট হ্যান্ড বর্ণনা পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে আমার রীতিমত সিক ফীল হচ্ছিলো।

আমি 'মুসলিম' আর 'হিন্দু' শব্দ দু'টো ইনভার্টেড কমা'র ভিতর দিয়েছি।
কারন আছে।
বলছি।